ছবি।


 

নিপুন হাতে তুলির শেষ টান দেন শিল্পী

অনেক দরদ ঢেলে তিনি এঁকেছেন

অভাগী মানুষের এক অবিকল প্রতিচ্ছবি

পিঠে শস্যের বোঝা রুগ্ন শীর্ণ দেহ মানুষটা

কঠোর ঠেলে বেরিয়ে আসে চোখ

রাগের পাশে দড়িপাকানো শিরা

মুখের উপর নিয়ে ওঠা লালা

জিভ দিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে লোকটা

কি জীবন্ত ছবি।


আজ পুরো কৃষাণ এই ছবিটা দেখে চেয়ে দেখল

কিরিবিরি উঠলো প্রচন্ড রাগে

শালা বেজন্মা শয়তান

কি ছবি এঁকেছিস বজ্জাত

প্রায় মরা লোকটাকে একে কতইনা আত্মগর্ব তোর

হাজা মজা রোগা রোগা খাসা তোর পাত্র-পাত্রী

শিল্পী না যমের অরুচি

শিল্পী চমকে উঠলেন ভুল করেছেন তিনি মস্ত ভুল

কি শান্ত দুঃখের ছবি চায়না

নিত্যদিন দুঃখের মাঝে সেতো হন্যে হয়ে খুঁজে আনন্দকে


নতুন করে নিজের থেকে রং নিলেন তিনি

ক্যানভাসে এবার আঁকবেন উল্লাসের চালচিত্র

কটা লোক গোল হয়ে বসে আছে

দূরে মাঝিরা বাজাচ্ছে মাদল

কলসির ফুটো বেয়ে গড়িয়ে আসছে তরল মদ

আকণ্ঠ গেলে সবাই নেশায় চুর



হদ পুরো কৃষাণ ছবিটা দেখলো

নির্লজ্জ বেহায়া কাহাকা ফুর্তির সময় তো বটে

রং সংগঠনে এত আট কিসে?

জোচ্চোর শিল্পী তুলি কালীর মান কোথা তোর?

সম্বিত শিল্পী হতবাক

বারে বারে একই বিড়ম্বনা

যাদের আঁখেন প্রতিটি ছবিতে তারা কেন এত পর ভাবে

কোথায় ঘটছে প্রমাদ

শিল্পী চিন্তায় ডুব দেন

কোথাও যেন তারা জ্বলে ওঠে

আবারো তুলে নেন রং তুলি পট।


শ্যামলা গাত্র তার উদ্দাম আদুল

পাহাড়ের মতো কালো এক মাসের পিঠে সে চলবে

হোক না সে বড্ড ছোট্ট

মস্ত এক লাফে শুন্যে উঠে যায় ছেলে

মস্টারি যুঠি ধরে ঝুলে থাকে বালক

ঘাড় ঝাঁকায় মস জোরে খুব জোরে

আরো জোরে বেগে ছুটে বালক মরিয়া

হালকা দেহ তার লেপ্টে আছে মোষটার গায়ে


দারুন আগ্রহে সে কিসান হুমরি খেয়ে পড়ে

বলে ওঠে গমগম স্বরে সাবাস বাচ্চা মরদ কা বেটা

ধরে থাক, কষে ধরে গলা , ভয় কিরে

নদী ঠিক পার হয়ে যাবি

ছবিটা আর ছবি নয় সে ছুটছে সমান সমানে।

শিল্পী আর সেই কিসান কাছাকাছি এসে পড়ে

মিলে যায় এক বিন্দুতে।




Post a Comment

0 Comments